1. admin@betnanews24.com : Betna :
আমানতের গুরুত্ব | বেতনা নিউজ ২৪
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫০ অপরাহ্ন

আমানতের গুরুত্ব

অনলাউন ডেস্ক,
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২
  • ৬৭ বার পঠিত
ফাইল ছবি

এই আমানতের বিস্তৃতি জীবনের সর্বক্ষেত্রে। ব্যক্তিগত জীবনে একনিষ্ঠতার সঙ্গে ইবাদত করা তথা আল্লাহর আদেশ পালন করা ও নিষেধ থেকে বিরত থাকা, হালাল-হারাম মেনে চলা, লেনদেনে, চালচলনে, কাজেকর্মে আল্লাহর বিধিবিধান মেনে চলা—সবই আমানতদারির বিভিন্ন অংশ। ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনেও আমানতদারি রক্ষা করা জরুরি। আমানতদারি রক্ষা না করা মুনাফিকের নিদর্শন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি—মিথ্যা কথা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানত খিয়ানত করে। (বুখারি: ৩২)

প্রিয় নবীজি (সা.) আরও বলেন, ‘যার মধ্যে এই চার স্বভাব রয়েছে, সে খাঁটি মুনাফিক; আর এর যেকোনো একটি যার মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে মুনাফিকের লক্ষণ বিদ্যমান, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। ১. আমানত খিয়ানত করে, ২. মিথ্যা বলে, ৩. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ও ৪. বিবাদে অশ্লীল কথা বলে। (বুখারি: ৩৩)

আমানত ব্যাপক অর্থবোধক একটি বিষয়। এর প্রধান অনুষঙ্গ তিনটি—জীবন, সম্পদ ও সম্মান। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক আমানত, কথার আমানত, গোপনীয়তা রক্ষার আমানত, সম্ভ্রমের আমানত, দায়িত্বের আমানত, ইলমের আমানত, ইসলামি দাওয়াতের আমানত, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আমানত, রাষ্ট্রীয় আমানত, আদালতের মাধ্যমে আল্লাহর ন্যায়বিধান বাস্তবায়নের আমানত, নেতৃত্ব ও পদমর্যাদার আমানত, ন্যায়বিচারের আমানত, জনগণের আমানত, সংগঠনের আমানত, প্রতিষ্ঠানের আমানত, চাকরির আমানত, ব্যবসায়ের আমানত, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের আমানত, পরিবার প্রতিপালনের আমানত ইত্যাদি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি তার আমানত আদায় করো, যে তোমার নিকট আমানত রেখেছে। আর তোমার সঙ্গে যে খিয়ানত করেছে, তার সঙ্গে খিয়ানত করো না।’ (আবুদাউদ: ৩৫৩৫; তিরমিজি: ১২৬৪) আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৪)

আল্লাহপ্রদত্ত সব নিয়ামতই বান্দার কাছে আমানত। এসবের হেফাজত করতে হবে, না হয় পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। যেমন: জীবন, যৌবন, চক্ষু, কর্ণ, বাক্শক্তি, হস্ত-পদ প্রভৃতি। আল্লাহ তাআলা যে সম্পদ দিয়েছেন, তা দ্বীনের পথে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। অন্যথায় তা খিয়ানতরূপে গণ্য হবে।

সফল মুমিনদের সাতটি গুণের অন্যতম হলো, ‘যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে।’ (সুরা-২৩ মুমিনুন, আয়াত: ৮; সুরা-৭০ মাআরিজ, আয়াত: ৩২) ‘আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতসমূহ তার প্রকৃত হকদারগণের নিকট পৌঁছে দাও।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৫৮) ‘আর তুমি খিয়ানতকারীদের পক্ষে বাদী হয়ো না।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ১০৫) আমানত খিয়ানত করার মাধ্যমে ইমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের খিয়ানত করো না। আর খিয়ানত করো না নিজেদের আমানতসমূহের, অথচ তোমরা জানো।’ (সুরা-৮ আনফাল, আয়াত: ২৭)

আল্লাহপ্রদত্ত সব নিয়ামতই বান্দার কাছে আমানত। এসবের হেফাজত করতে হবে, না হয় পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। যেমন: জীবন, যৌবন, চক্ষু, কর্ণ, বাক্শক্তি, হস্ত-পদ প্রভৃতি। আল্লাহ তাআলা যে সম্পদ দিয়েছেন, তা দ্বীনের পথে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। অন্যথায় তা খিয়ানতরূপে গণ্য হবে। আল–কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতির হেফাজত করে, যারা নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হয়, এ লোকগুলোই হচ্ছে (জান্নাতের) উত্তরাধিকারী। জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারও এরা পাবে; এরা অনন্তকাল (সেখানে) থাকবে।’ (সুরা-২৩ মুমিনুন, আয়াত: ৮-১১) নবী করিম (সা.) বলেন, ‘একজন সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী আখিরাতে নবীগণ, সিদ্দিকগণ এবং শহীদগণ ও সলিহিনগণের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি: ৩/১২০৯)

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা