1. admin@betnanews24.com : Betna :
ইউক্রেনসহ সব প্রতিরোধে অতন্দ্র পিংক ফ্লয়েড - বেতনা নিউজ ২৪
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

ইউক্রেনসহ সব প্রতিরোধে অতন্দ্র পিংক ফ্লয়েড

বেতনা নিউজ ২৪ ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২
  • ৪০ বার পঠিত

নতুন গান প্রকাশ হোক আর না হোক কোনো জুলুমে পিংক ফ্লয়েড নিরব ছিল না কখনো। না ব্যান্ড দল হিসেবে না এর সাবেক সদস্যরা এককভাবে

কোনো গান ঘুম পাড়ায়। আবার কোনো গান ঘুম ভাঙায়। পিংক ফ্লয়েড ভক্তরা জানেন এই রক ব্যান্ডটির গানের ধরন। সেই ১৯৬৫ সাল থেকে শুরুর পর যাদের সঙ্গীত অতন্দ্র। বয়স হলেও এ ব্যান্ডের রকাররা চিরসবুজ। এক আকাশের নিচে এক ন্যায়ের পৃথিবীর স্বার্থে পিংক ফ্লয়েড দিশা দেখায় গানে।

গত ৮ এপ্রিল পিংক ফ্লয়েড তাদের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘‘হেই হেই রাইজআপ’’ গানটি প্রকাশ করে। এটি ব্যান্ডটির সর্বশেষ প্রকাশিত গান। এ তথ্য এখন অনেকটা বাসি। তবুও গানটি সম্পর্কে কিছু উল্লেখ প্রয়োজন।

সংবাদমাধ্যমে ব্যান্ডদল পিংক ফ্লয়েড এ গান নিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসনের বিপক্ষে এই গান। একই সঙ্গে এ সঙ্গীত ইউক্রেনের জনগণের লড়াইয়ের প্রতি সংহতি। এর লিরিক ব্যান্ডের ডেভিড গিলমোরের লেখা। তবে যিনি কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি ব্যান্ডের কেউ নন। হন্তারক রুশ রাষ্ট্রের বোমা হামলায় আহত ইউক্রেনের শিল্পী আন্দ্রি খিলভনিউক এর গায়ক। রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর সময়টায় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট নিয়ে সফরে। জন্মভূমি আক্রান্ত হওয়ার খবরে তিনি ইউক্রেন ফেরেন। খিলভনিউক যোগ দেন কিয়েভের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে। গানের মানুষ হয়ে ওঠেন সম্মুখ সমরের যোদ্ধা। পিংক ফ্লয়েড মনে করে, একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশের আগ্রাসন নিন্দাজনক। এই যুদ্ধবিরোধী গান থেকে আয়ের পুরোটাই ইউক্রেনে মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে বলে ব্যান্ডটি জানায়।

এই খবরটি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে অনেকটা এভাবে যে, ‍‍‘‘প্রায় ৩ দশক পর পিংক ফ্লয়েডের নতুন গান’’ বা ‘‘আবার গানে ফিরলো পিংক ফ্লয়েড’’। এটি হয়তো কাগুজে সত্য। অথবা প্রচলিত ‘বিনোদন সাংবাদিকতা’র বয়ান। কারণ ১৯৯৪ সালে ‘‘দ্য ডিভিশন বেল’’ এরপরে দীর্ঘ ২৮ বছর ব্যান্ডের নতুন কোনো গান নেই। তবে ২০০৫ সালে লন্ডনের হাইড পার্কে প্রায় দুই যুগ পরে একত্রিত হয় ব্যান্ডের সদস্যরা। ‘‘লাইভ এইট কনসার্ট’’ শীর্ষক সে আয়োজন ছিল ঐতিহাসিক। ২০০৬ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সিড ব্যারেট। ২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আরেক সদস্য রিচার্ড রাইটও পাড়ি জমান অনন্তলোকে। ২০১৪ সালে গিলমোর ও ম্যাসন পিংক ফ্লয়েডের শেষ অ্যালবাম ‘‘দ্যা এন্ডলেস রিভার’’ প্রকাশ করেন। এর আগে ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রজার ওয়াটার্সও দল ছাড়েন।

নতুন গান প্রকাশ হোক আর না হোক কোনো জুলুমে পিংক ফ্লয়েড নিরব ছিল না কখনো। না ব্যান্ড দল হিসেবে না এর সাবেক সদস্যরা এককভাবে। ২০০৫ সালে ইসরায়েল সফরের পর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালান তখনের পিংক ফ্লয়েডের রজার ওয়াটার্স। তিনি সব সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ইসরায়েলকে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।

২০১৬ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবাধিকারকর্মীদের ‘‘উইমেনস বোট টু গাজা’’ কর্মসূচিতে সমর্থন জানায় পিংক ফ্লয়েড। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে সরব ছিল এ ব্যান্ড। এমন কী গত বছরও ফুটবল মাঠের এক ঘটনায় পর্যন্ত সরব হয় পিংক ফ্লয়েড সংশ্লিষ্টরা।

চেলসিকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের প্রাচীনতম ফুটবল আসর এফএ কাপ জেতে লিস্টার সিটি। লিস্টারের খেলোয়ার বাংলাদেশি বংশদ্ভুত হামজা চৌধুরী ট্রফি জেতার পর মাঠের দর্শকের সামনে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করেন। তখন গাজা উপত্যকায় আবার নতুন করে চলছিলো ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা।

ফুটবল মাঠে হামজার এ প্রতিবাদকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় আলোড়ন তোলেন পিংক ফ্লয়েডখ্যাত তারকা ও অ্যাকটেভিস্ট রজার ওয়াটার্স। নিজের সামাজিকযোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে হামজাকে অভিনন্দন জানান এই কিংবদন্তি রকার। এক ভিডিও বার্তায় একে তিনি আখ্যায়িত করেন ‘হৃদয় জুড়ানো’ হিসেবে।

সেখানে রজার আরও জানান, ইসরায়েলি নৃশংসতার বিরুদ্ধে তিনি নিজে একটি পিটিশন দায়ের করছেন। একই সঙ্গে তিনি ফিফা ও উইয়েফাকে অনুরোধ করেছেন ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জানাতে দেশটির আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য মুখ খুলতে। রজার ওয়াটার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর যেমন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে হাটু গেড়ে প্রতিবাদে মেতেছিলো দুনিয়ার খেলার জগত, ইসরায়েলি নৃশংসতার বিরুদ্ধেও যেন তেমন প্রতিবাদী হয় সবাই।

লেখার শুরুতে পিংক ফ্লয়েডের গান সম্পর্কে অতন্দ্র বলা হয়েছে। মানবতার পক্ষে এ রক ব্যান্ডটি নিরত ছিল না আসলে কখনোই। এখন চলা ইউক্রেন প্রতিরোধে শামিল হওয়াও এর সাক্ষ্য যেন। তখন মনেহয় পিংক ফ্লয়েডের প্রতিরোধ ছাড়া কোনো বিক্ষোভ পূর্ণতা পায় না। নিপীড়িতের পক্ষের গানের গেরিলা দল একে বলা অশুদ্ধ হবে না।

লেখক, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনিস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়।

২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা