1. admin@betnanews24.com : Betna :
ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে ‘আমের ম্যাগি নুডলস’! - বেতনা নিউজ ২৪
বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে ‘আমের ম্যাগি নুডলস’!

বেতনা নিউজ ২৪ ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৬ মে, ২০২২
  • ৪৫ বার পঠিত

ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে ‘আমের ম্যাগি নুডলস’!

অনেকেই এই রেসিপি দেখে মন্তব্য করেছেন, এটি পৃথিবীর নাকি অন্য কোনো গ্রহের খাবার!

মানুষ নিত্য নতুন স্বাদের খাবারের পদ আবিষ্কারের চেষ্টা করে। এর মধ্যে কিছু রেসিপি খেতে ভালো হলেও অনেক গুলোই হাস্যরসের সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেমনই হাসির উদ্রেক ঘটিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় একটি “স্ট্রিট ফুড”। নুডলস ব্র্যান্ড ম্যাগি ও আম দিয়ে তৈরি এই খাবারটি ভারতীয়দের কাছে স্বাভাবিক হলেও অনেকের কাছেই অদ্ভুত মনে হয়েছে।

শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও আমের সঙ্গে নুডুলসেরীই সংমিশ্রণটি হজম করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ফুডি নামে ইনস্টাগ্রামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক নারী ফ্রাইং প্যানে ম্যাজিক মসলা এবং পানি দিয়ে সাধারণ রেসিপি দিয়েই ম্যাগি নুডলস রান্না করছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তিনি এতে আমের জুস ঢেলে দেন এবং প্লেটে গরম গরম নুডলস পরিবেশন করার আগে আমের টুকরা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

পোস্ট করা পর থেকেই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে দেড় লাখেরও বেশি ভিউ এবং ৫ হাজারেও বেশি লাইক পেয়েছে।

অনেকের কাছেই এই রেসিপিটি অদ্ভুত মনে হলেও কেউ কেউ পোস্টে কোথায় এই নুডলস পাওয়া যায় জানতে চেয়ে মন্তব্যও করেছেন।

ADVERTISEMENT

কেউ আবার মজা করে লিখেছেন, এটি পৃথিবীর নাকি অন্য কোনো গ্রহের খাবার!

প্রসঙ্গত, জনপ্রিয় বহুজাতিক খাবারের ব্র্যান্ড ম্যাগি নুডলস ছাড়াও মশলা, স্যুপের জন্য জনপ্রিয়।

ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান এবং মালদ্বীপে জনপ্রিয় নাস্তা হিসেবে পরিচিত ম্যাগি নুডলস।

সাতক্ষীরা থেকে ১০০ টন আমের গন্তব্য হবে ইউরোপ

১৪টি কোম্পানি এসব আম রপ্তানি করবে

অষ্টমবারের মতো ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাবে সাতক্ষীরার আম। এ তালিকায় রয়েছে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম। এ জন্য বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম চাষে জেলার ৫০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১৪টি কোম্পানি এসব আম রপ্তানি করবে।

আবহাওয়া এবং পরিবেশগত কারণে দেশের অন্য সব জেলার আগেই সাতক্ষীরার আম পাকতে শুরু করে। এজন্য দেশের বাজারে সবার আগে এখানকার আম বিক্রি শুরু হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাতক্ষীরার আম চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের আমের ফলন কম হয়েছে। দাবদাহ ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমের আকারও কিছুটা ছোট হয়েছে। তবে এ বছর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় গাছের আম গাছে রয়েছে। এতে চাষিরা বেশ খুশি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। জেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত ৫ হাজার ২৯৯টি আমবাগান ও ১৩ হাজার আমচাষী রয়েছেন। চলমান মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় তা পূরণ হচ্ছে না।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড় এলাকার আম ব্যবসায়ী বিপ্লব ভট্টাচার্য ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ মৌসুমে ১২টি বাগান কিনেছিলাম। ঘূর্ণিঝড় আম্পান, ফণী, ইয়াসে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাগানের অধিকাংশ গাছে আম আসেনি। যে সময় বৃষ্টির প্রয়োজন ছিলো সে সময় বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক আম ঝরে গেছে এবং আকারে কিছুটা ছোট হয়েছে। আমের দামও খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। গোপালভোগ মনপ্রতি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছি। এবারও লাভের মুখ দেখব বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিবছর লাভের আশায় গাছ কিনে ঋণগ্রস্ত হয়ে গিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “মৌসুমের শুরুতে স্কয়ার কোম্পানি বাগানের ৫ টন আম বিদেশে রপ্তানি করার জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমার বাগান আমি নিরাপদ ও বিষমুক্ত রেখে সেইভাবে পরিচর্যা করেছি। কিন্তু তাদের দিক দিয়ে কোনো প্রকার সাড়া পাচ্ছি না। শুনছি এবার সাতক্ষীরা থেকে ১০০ টন আম বিদেশে রপ্তানি হবে। তবে আমার কাছ থেকে আম না নিলে আমি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।”

ADVERTISEMENT

পৌরসভার রাজার বাগান এলাকার আমচাষী আবুল হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ খুবই বিপদে আছি। প্রতি বছর কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের ওপর হানা দিচ্ছে। বিগত দুই তিন বছর আম পাড়ার আগমুহূর্তে ঝড়ের কারণে সিংহভাগ আম নষ্ট হয়ে গেছে।”

সাতক্ষীরা জেলার আমচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি লিয়াকত হোসেন বলেন, “গত কয়েক বছর করোনাভাইরাসে মহামারি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জেলার আম চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় এ মৌসুমে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তারপরও চাষির ভালো দাম পাবেন বলে আশায় বুক বাধছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে অন্যান্য জেলার আমের চেয়ে সাতক্ষীরার আম আগেভাগে পাকে। ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আম বিদেশে রপ্তানি হয়। ২০২০ সালে কোভিডের কারণে বিদেশে আম পাঠানো যায়নি।”

লিয়াকত হোসেন বলেন, “এ বছর আবারও কয়েকটি কোম্পানি বিদেশে আম রপ্তানির জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাদের মান অনুযায়ী আম সরবারহ করতে পারব। বেশ কয়েকটি বাগানে তাদের নিয়ম অনুযায়ী আমের পরিচর্যা করা হয়েছে। আশা করছি সাতক্ষীরার আম ইউরোপের মাটিতে পৌঁছাবে।”

সুলতানপুর বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সরকারি নির্দেশনায় ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ সাতক্ষীরার স্থানীয় জাতের আম ভাঙা শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা বড় বাজারের প্রতিটি আমের আড়তে শুধুমাত্র গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি মণ আম দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ তারিখের পর থেকে হিমসাগর আম বাজারে উঠবে।”

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, “চলমান মৌসুমে জেলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজে আবহাওয়ার কারণে এবার জেলার অধিকাংশ গাছে মুকুল আসেনি। সে কারণে এবার ফলন অনেক খারাপ হয়েছে। সে কারণে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে বিদেশে আম রপ্তানি হয়নি। এবারের মৌসুমে বিদেশে রপ্তানির জন্য ৫০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিছু বাগান বিষমুক্ত ও নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধবভাবে আম উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার ১৪টি কোম্পানি বিদেশে আম রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের চেইন শপগুলোতে সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ, হিমসাগর,  ল্যাংড়া  এবং আম্রপালি আম পৌঁছে যাবে বলে কথা হয়েছে। ইতোমধ্যে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলা কৃষি বিভাগের বৈঠক হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা