1. admin@betnanews24.com : Betna :
বাংলা সাহিত্য পরিচিতি - পর্ব ০৭ | বেতনা নিউজ ২৪ সাহিত্য
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:০১ পূর্বাহ্ন

বাংলা সাহিত্য পরিচিতি – পর্ব ০৭

সাহিত্য ডেস্ক,
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৯ বার পঠিত

সাহিত্য ডেস্ক,

 

বাংলা লোক সাহিত্য

বাংলাদেশে বাংলা লোক সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। যদিও এর সৃষ্টি ঘটেছে অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রসারিত হয়েছে মৌখিকভাবে, তথাপি বাংলা সাহিত্যকে লোক সাহিত্য করেছে সমৃদ্ধ। পৃথক ব্যক্তি-বিশেষের সৃষ্টি পরিণত হয়েছে জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যে যার মাধ্যমে প্রকাশ ঘটেছে ভালোবাসা, আবেগ, অনুভূতি ও চেতনার। লোক সাহিত্য হলো মৌখিক সাহিত্য। ফলে এধরনের সাহিত্য স্মৃতিসহায়ক কৌশল, ভাষার গঠনকাঠামো এবং শৈলীর উপরও নির্ভর করে থাকে। এদেশের লোক সাহিত্য সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করতেছে। সেগুলো হলো মহাকাব্য, কবিতা ও নাটক, লোক গল্প, প্রবাদ বাক্য, গীতি কাব্য ইত্যাদি । লোক সাহিত্যের এই সম্পদগুলো সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে অথবা অন্য কোন উপায়ে এখনো এই অঞ্চলে টিকে রয়েছে। অনেক বছর ধরে এদেশে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস ছিলো । বাংলাদেশের লোক সাহিত্য এই জাতিগোষ্ঠীগুলো দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে । ফলশ্রুতিতে বর্তমান বাংলাদেশের বহুমুখী বৈচিত্র্যপূর্ণ বিশাল লোক সাহিত্যের একাংশের ব্যাখ্যায় ইতিহাসের প্রয়োজন মনে হয় ।

বাংলাদেশের লোক সাহিত্য লোক সাহিত্যের প্রচলিত সকল শাখায় নিজেকে প্রসারিত করেছে। এগুলো হচ্ছে গল্প, ছড়া, ডাক ও খনার বচন, সংগীত, ধাঁধা, প্রবাদ বাক্য, কুসংস্কার । লোকগীতি বাংলা লোক সাহিত্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের সংগীত হলো কাব্যধর্মী। এদেশীয় সংগীতে বাদ্যযন্ত্রের চেয়ে মৌখিক সুরের দক্ষতার উপর অধিক নির্ভরশীলতা লক্ষ করা যায়। লোকগীতিকে আমরা সাতটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি। সেগুলো হলো প্রেম, ধর্মীয় বিষয়, দর্শন ও ভক্তি, কর্ম ও পরিশ্রম, পেশা ও জীবিকা, ব্যাঙ্গ ও কৌতুক। অন্যদিকে এদেশীয় লোকসাহিত্যে আমরা গানের বিভিন্ন শাখা হিসাবে দেখতে পাই। এগুলো হচ্ছেঃ বাউল গান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, গম্ভীরা, কবিগান, জারিগান, সারিগান, ঘাটু গান,যাত্রা গান ,ঝুমুর গান প্রভৃতি।

বাংলা লোক সাহিত্যের অমূল্য কতগুলি সম্পদ হল:

  • মৈমনসিংহ গীতিকা (ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত পালাগানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়ে থাকে । এই গানগুলো প্রাচীন কাল হতে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছে। তবে ১৯২৩-৩২ সালে ড. দীনেশচন্দ্র সেন এই গানগুলো সম্পাদনা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ করেন। বর্তমান নেত্রকোণা জেলার আইথর নামক স্থানের আধিবাসী চন্দ্রকুমার দে এসব গাঁথা সংগ্রহ করছিলেন।)
  • পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের প্রচলিত লোকসাহিত্যকে একত্রে পূর্ববঙ্গ গীতিকা বলা হয়। প্রাচীন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসা পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ১৯২৬ সালে ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সাহায্যে পালাগুলো সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। পরে ১৯৭১-১৯৭৫ সালে ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক ও সাত খণ্ডে প্রাচীন পূর্ববঙ্গ গীতিকা প্রকাশ করেন।)
  • ঠাকুরমার ঝুলি
  • ঠাকুরদাদার ঝুলি

 

বাংলা গদ্যের উন্মেষপর্ব

চিঠিপত্র লেখা এবং দলিল-দস্তাবেজ লেখার প্রয়োজনে বাংলা গদ্যের সূত্রপাত। দলিল-দস্তাবেজ ইত্যাদি সংস্কৃত ও ফার্সি- এই দুই ভাষার প্রভাবে পরিকীর্ণ। পর্তুগীজ ধর্মপ্রচারক মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ-এর রচনা রীতি বাংলা গদ্যের অন্যতম আদি নিদর্শন। ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ গ্রন্থ থেকে নিম্নরূপ উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।

“ফ্লান্দিয়া দেশে এক সিপাই বড় তেজোবন্ত ছিল। লড়াই করতে করতে বড় নাম তাঁর হলো, এবং রাজায তারঁ অনেক ধন দিলেন। ধন পেয়ে সে পিতামাতার ঘরে গেল। তাঁর দেশে সে রাত্রে পৌঁছালো । তাঁর এক বোন ছিল ; তাঁর পন্থে লাগাল পাইল ; ভাই বোনকে চিনলো, তাঁকে বোন  চিনলো না । তখন সে বোনকে বললো, “তুমি কী আমারে চিন? বোন বললো না । সে বললো,”আমি তোমার ভাই।” তারপর সে  প্রীত হলো । ভাইয়ে ঘরের খোজ-খবর নিলো, জিজ্ঞেস করলো, “আমারদের পিতামাতা কেমন আছেন?” বোন বললো, “কুশল।” দুইজনে কথাবার্তা কইল।”

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত আলালের ঘরে দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত আদি গদ্যসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য। এটি ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত হয় । এই গ্রন্থের ভাষা ‘আলাল ভাষা’ নামে পরিচিত। এই গ্রন্থে কথ্যরূপী গদ্য একটি পৃথক লেখ্য রূপে পরিচিত হয়।

“বেণীবাবু কইলো- অদ্য রাত্রে এখানে থাকো কল্য প্রাতে তোমাকে কলিকাতায় লইয়া স্কুলে ভর্তি কইয়া দিব। ক্ষণেক কাল পরে মতিলাল জলযোগ কইয়া দেখিল অনেক বেলা আছে। চঞ্চল স্বভাব- এক স্থানে কিছু কাল বসতে দারুণ ক্লেশ বোধ হয়- এজন্য আস্তে আস্তে উঠে বাটীর চতুর্দিকে দাঁদুড়ে বেড়াতে লাগলো- কখন ঢেঁস্কেলের ঢেঁকিতে পা দিচ্ছে- কখন বা ছাতের উপর গিয়ে দুপদুপ করছে-কখন বা পথিকদিগকে ইঁট-পাটকেল মেরে পিট্টান দিতেছে ; এইরূপে দুপ-দাপ করিয়া বালী প্রদক্ষিণ করতে লাগলো-কারোর বাগানে ফুল ছেঁড়ে-কারোর গাছের ফল পাড়ে-কারোর মট্কার উপর উঠিয়া লাফায় ।”

বাংলা গদ্য শুরুতে ছিল সংস্কৃতি গদ্যের চালে রচিত যার প্রমাণ বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ আছে। দেখা যায়, বিশিষ্ট গদ্যকার প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যকে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করে দিয়ে গেছেন। লেখার ভাষাকে জনবান্ধব ও সহজবোধ করে তোলা অর্থাৎ সাহিত্যে চলিত ভাষা প্রচলন করে গেছেন ।

বঙ্কিমসাহিত্য

১৯৬৯ সালের একটি ভারতীয় ডাকটিকিটে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি ( সম্মানপ্রদর্শনপূর্বক তৈরি করা হয়)

বাংলা সাহিত্যের মূল ধারা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতই হয়েছিলো; বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন । বঙ্কিম মাত্র ২৪ বছর বয়সে ১৮৬২ সালে একটি উপন্যাস লেখার কাজ শুরু করেছিলেন, ঐ বছরই এক ইংরেজ নারী হানা ক্যাথেরিন মুলেন্স ফুলমণি ও করুণার বিবরণ নামের একটি উপন্যাস প্রকাশ করেছিলেন তা দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয় প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস যেটা ছিলো একজন বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ভাষার উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাসের খসড়া শেষ হতে হতে তিন বছর লেগে যায় এবং তিনি ১৮৬৫ সালে দুর্গেশনন্দিনী নামের একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন । এরপর তিনি ‘বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক’-এর মর্যাদা পান ।

 

বঙ্কিমের প্রেমমূলক উপন্যাস উপন্যাস প্রকাশের বছর
“দুর্গেশনন্দিনী” ১৮৬৫
“কপালকুণ্ডলা” ১৮৬৬
“মৃণালিনী” ১৮৬৯
“যুগলাঙ্গুরীয়” ১৮৭৪
“চন্দ্রশেখর” ১৮৭৫
“রাজসিংহ” ১৮৮১
“আনন্দমঠ” ১৮৮২
“দেবী চৌধুরানী” ১৮৮৪
“রাধারাণী” ১৮৮৬
“সীতারাম” ১৮৮৭

রবীন্দ্রসাহিত্য

বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা অবধারিতভাবেই স্বতন্ত্র। তার জীবন ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন দিগন্তের সূচনা । তিনি ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী এবংদার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরুবিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। তার প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫২। তবে বাঙালি সমাজে তার জনপ্রিয়তা প্রধানত সংগীতস্রষ্টা হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ প্রায় দুই হাজার গান লিখেছিলেন। কবিতা ও গান ছাড়াও তিনি ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধের বই এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন।  চলবে….

 

 

বিভাগ : সাহিত্য

 

বেতনা নিউজ ২৪ /সা/ডে/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা